বিগব্যাং এর আগের অবস্থা কেমন ছিল? শেষ পর্ব।
বিগব্যাং এর আগের অবস্থা
নিয়ে পদার্থবিদেরা যেসব তত্ত্ব দিয়েছেন তাদের মাঝে চারটি এখানে তুলে ধরা হল।
১) আমাদের মহাকাশের শুরুর
আগে আরেকটি মহাকাশ ছিল যা সিঙ্গুলারিটিতে ঘনীভূত হয়। এই ধারণাটির নাম বিগ বাউন্স। এটি
সর্ব প্রথম প্রস্তাব করেন প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক রবার্ট ডিক এবং জেমস পীবলস,
১৯৬০ এর দশকে। এই ধারণার কিছু কিছু সমর্থকের মতে আমাদের মহাকাশ ঘনীভূত ও পরবর্তীতে
বর্ধিত হবার একটি শেষ না হওয়া চক্রের মাঝে চলমান। এই তত্ত্ব মতে আমরা হয়ত আরও একটি
ঘনীভূত হবার ঘটনার দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। সমালোচকেরা বলেন এনট্রপি আমাদের মহাকাশ আবার
একটি সিঙ্গুলারিটিতে ঘনীভূত হবে এই ব্যাপারটি সমর্থন করে না। তাই এই তত্ত্বের সমর্থকদের
মতে এন্ট্রপির সাহায্যে এই ব্যাপারটির ব্যাখ্যা দিতে গেলে পদার্থবিজ্ঞানের সম্পূর্ণ
নতুন একটি শাখা তৈরির প্রয়োজন হবে।
২) কোনও কিছু থেকে গতিপ্রাপ্ত
হবার আগে আমাদের মহাকাশ শীতনিদ্রা বা হাইবারনেশনে ছিল। এই ধারণা মতে বিগব্যাং এর আগের
মহাকাশ ছিল ছোট, সমতল এবং খুবই উচ্চচাপের জায়গা। এটি ছিল মেটাস্টেবল। মেটাস্টেবল ব্যাপারটা
হল তাসের ঘরের মত। যতক্ষণ না বাইরে থেকে কোনও শক্তি এসে এটাকে আঘাত না করছে, ততক্ষণ
কিন্তু সেটি অক্ষত থাকে। বিগব্যাং এর আগের অবস্থার মহাকাশেও এরকম শক্তি হয়ত কোথাও থেকে
এসেছিল। ফলে ঐ সময়ের মহাকাশ আর মেটাস্টেবল না থেকে বর্ধিত বা ইনফ্লেটেড হওয়া শুরু করে।
এই তত্ত্ব এন্ট্রপির নিয়ম ভঙ্গ করেনা কিন্তু বর্তমান মহাকাশের এনট্রপির যা অবস্থা সেটারও
কোনও সঠিক ব্যাখ্যা দেয় না।
৩) বিগব্যাং আগে কোনও সিঙ্গুলারিটি
বলতে কিছু ছিলই না। মহাকাশের সমস্ত শক্তি আবদ্ধ ছিল মহাকাশের বুননের মাঝে অর্থাৎ ফেব্রিক
অব স্পেসের মাঝে। এই তত্ত্বের নাম “ইনফ্লেশন হাইপোথিসিস।“ এই তত্ত্ব মতে “ইনফ্লেশন
ফিল্ড” এ কিছুটা নড়চড়ে অবস্থার সৃষ্টি হয়। যা থেকে ফেব্রিক অব স্পেসে আটকে থাকা শক্তি
গুলি কোনও একটি নির্দিষ্ট স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে মহাকাশ খুবই দ্রুত বর্ধিত হয়। এই
নিয়ন্ত্রিত বর্ধন হয়ত খুবই প্রাথমিক ধরণের গ্র্যাভিটেশনাল ওয়েভ তৈরি করে। এই ওয়েভ ২০১৫
সালে লাইগো’র আবিষ্কার করা গ্র্যাভিটেশনাল ওয়েভের মত নয়। সেই প্রাথমিক গ্র্যাভিটেশনাল
ওয়েভের কোনও প্রমাণ পদার্থবিদেরা এখনও সংগ্রহ করতে না পারলেও সৃষ্টির শুরুতে এনট্রপি
কম থাকার ব্যাপারটার ব্যাখ্যা এই তত্ত্বের সাহায্যেই সবচেয়ে ভালভাবে দেয়া যায়।
৪) আমাদের মহাকাশ হল মাল্টিভারসের
মাঝে একটি মহাকাশ। এই তত্ত্বটি প্রথম দেয়া হাইপোথিসিসেরই একটি শাখা। এই তত্ত্ব মতে
যেসব কারণে মহাকাশের ইনফ্লেশন শুরু হয়েছে সেই সব কারণেই একই সময় আরও বহু ছোট ও কম এনট্রপি
সম্পন্ন মহাকাশের সৃষ্টি ও ইনফ্লেশন হয়েছে। দুর্ভাগ্যবশতঃ ঐ সব প্রতিটি মহাকাশ প্রতিটি
থেকে আলাদা হবার কারণে আমরা তাদের শনাক্ত করতে পারি না। এই ব্যাখ্যাটা অনেক পদার্থবিজ্ঞানীদের
মনপুতঃ নয়।

No comments